আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরাপত্তাহীনতা দূর করা জরুরি
asif
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের মাত্র বেড়ে গেছে। খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিয়মিত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকা- বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং ভাড়াটে খুনিদের সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে হত্যা মামলা হয়েছে এক হাজার ৭২৭টি। রাজধানীতে এ সময়ে ১০২ জনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক বিরোধে নিহত হয়েছেন ৫৬ জন নেতাকর্মী, যার মধ্যে বিএনপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে শত শত সহিংস ঘটনার রেকর্ডও পাওয়া গেছে। রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনে আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, অর্থ ভাগাভাগি ও চাঁদাবাজি ঘিরে সংঘর্ষ ও হত্যাকা- ঘটছে। এসব বিরোধে শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় কোন্দল ও অন্তঃকোন্দলে শত শত বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মানুষ চায় নিরাপদ জীবন, মান-সম্মান নিয়ে বাঁচার নিশ্চয়তা। রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সংস্কার অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু মানুষের নিরাপত্তাহীনতা নয়, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব, দায়িত্ব পালনে বিলম্ব মানেই মানুষের আস্থা হারানো।
