রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যার পর রক্তপান করা ছেলের মৃত্যুদ-
asif
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
নিজস্ব প্রতিনিধি-: রাঙামাটির সাজেকে চাঞ্চল্যকর শান্তি লাল চাকমা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নিহত শান্তি লাল চাকমার আপন ছেলে ও ভাতিজাই এই নৃশংস হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার ভাইবোন ছড়া এলাকায় মর্মান্তিক এই হত্যাকা- ঘটে। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার ভাইবোন ছড়া এলাকায় রাতের খাবার শেষে ঘর থেকে ডেকে বের করে শান্তি লাল চাকমাকে গলাই গামছা পেঁচিয়ে ধরে আসামিরা। এরপর ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। নৃশংসতা এখানেই শেষ নয়; খুনের পর আসামিরা লাশ গলা থেকে রক্ত পান করে এবং পরে লাশ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার আট দিন পর বাঘাইছড়ির কাচালং নদী থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত দুই আসামি নিহতের ছোট ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রায়ে দ-বিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদ- ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদ- দেন। মামলার অপর আসামি আলোময় চাকমা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উপস্থিত আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকা- সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ ইকবাল বলেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তিতে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকা-ে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নাই। পারিবারিক দ-ে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আদালত শান্তি লাল চাকমা হত্যাকা-ে দুই জনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
