বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
asif
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
বিশেষ প্রতিনিধি - বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, সশস্ত্র সংঘাত, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জলবায়ুজনিত চাপের কারণে বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের বেইজিংয়ে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৩তম বেইজিং শিয়াংশান ফোরামের চতুর্থ প্লেনারি অধিবেশনে ‘দ্য রোল অ্যান্ড ভিশন অভ ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। শামছুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো শুধু বৈশ্বিক নিরাপত্তা সিদ্ধান্তের অনুসারী নয়; আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংলাপ, শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি, জাতীয় সহনশীলতা এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্বে গুরুত্ব দিচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা, উন্নয়ন ও আস্থা তৈরির কাঠামো তৈরি করেছে। তবে অনিষ্পন্ন বিরোধ, সশস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকা-, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সীমান্তবর্তী অস্থিতিশীলতা এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুনের চীন সফর দুই দেশের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ নতুন গতি এনেছে। অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেÑপ্রতিরোধমূলক কূটনীতি ও আঞ্চলিক সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদার, সাইবার ও জলবায়ুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মিলিত সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সংঘাতপ্রবণ এলাকায় জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্থানীয় আস্থা শক্তিশালী করা।
