নিজস্ব প্রতিবেদক - উপকূল ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজকে আধুনিক ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জাহাজগুলো হলো- এমভি মধুমতি, এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা। এগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকার নদীবন্দর সদরঘাটের বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসি টার্মিনালে জাহাজগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। এছাড়া বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে। তিনি জানান, জাহাজগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে বিআইডব্লিউটিসি একসঙ্গে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে এসব জাহাজে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহির্বিভাগসহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা স্বাভাবিক সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষ মূল ভূখ-ে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়।
