প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে বিষাক্ত ধাতু আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে
asif
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক গবেষণা আমাদের সামনে যে চিত্র তুলে ধরেছে তা সত্যিই ভয়াবহ। জনপ্রিয় প্রক্রিয়াজাত খাবারÑবেকারি পণ্য, স্ন্যাকস, চকলেট, দুগ্ধজাত খাদ্য ও কোমল পানীয়তে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পরীক্ষিত ৩২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে ৩১টিতেই অ-ক্যানসারজনিত ঝুঁকি শনাক্ত হওয়া আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলের গভীর দুর্বলতার প্রমাণ। শিশুদের প্রিয় ক্রিমরোলে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৩৫৭ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। কোমল পানীয়তে এ মাত্রা আরও ভয়াবহÑ৫৯৪ গুণ বেশি। শিশুদের শারীরিক ওজন কম হওয়ায় এবং তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংবেদনশীল হওয়ার কারণে এসব ধাতুর ক্ষতিকর প্রভাব তাদের ওপর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি, হাড় ও রক্তের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ভারী ধাতু খাদ্যে প্রবেশের উৎস বহুমুখী। মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাতকরণের ত্রুটি কিংবা মোড়কজাতকরণের সময়ও খাদ্যে এসব উপাদান মিশে যেতে পারে। যদিও গবেষকরা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেননি, তবুও পুরো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যে প্রশ্নবিদ্ধ, তা স্পষ্ট। এ অবস্থায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। প্রথমত, বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে বাজারে প্রচলিত খাদ্যপণ্য নিয়মিত ও কঠোর ল্যাবরেটরি পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিকর ধাতুযুক্ত পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং দোষী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপেÑকাঁচামাল সংগ্রহ থেকে প্যাকেজিং পর্যন্তÑগুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা জরুরি। গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যের দাবি তুলতে পারেন। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা যায় না। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক সংকট। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী প্রজন্মকে আমরা একটি বিষাক্ত খাদ্যশৃঙ্খলের হাতে তুলে দেব।
