জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরিয়ে দিলে ষষ্ঠ স্ত্রী
asif
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
নিজস্ব প্রতিনিধি-: রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় এক নারী অনবরত কড়া নাড়ছিলেন। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেনÑ এমন দাবি তার। কিন্তু দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও দরজা খুলছিলেন না কেউ। একপর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন তিনি। পুলিশ এলেও দরজা খোলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢোকে। ভেতর থেকে বের করে আনা হয় এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে। পরে দুই জনকেই নেওয়া হয় থানায়। গতকাল শুক্রবার সকালে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট। মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও এক নারী অবস্থান করছিলেন। ওই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, ওই নারী তার স্ত্রী। এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। আন্নি বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন পেয়েছি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করিনি। আন্নির ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে এই নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন। আন্নির দাবি, এর মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মাহবুব ও সানজিদা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশ দুই জনকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা মাহবুব আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন। তবে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও ওই নারীকে পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান আন্নি। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছি। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। তিনি বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
