সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে যে চ্যালেঞ্জ দিলেন এমপি চাঁদ
asif
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
রাজশাহীপ্রতিনিধি-: রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমালোচনা করে বলেন, রাশিয়ায় পালিয়ে থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন, ‘আরে তোর বাপ তো একটা পিয়ন, লালমনিরহাটে ২০-৩০ টাকা আদায় করে খেত, আরে বাপের বেটা যদি হস, তোর কত বড় ক্ষমতা আছে, বাঘা-চারঘাট ও আড়ানীর মাটিতে এসে রাজনীতি কর।’ গত বুধবার বিকেলে আড়ানী মনোমোহিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আড়ানী পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আবু সাইদ চাঁদ আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা থেকে জনগণ পক্ষে আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ-জামায়াত ১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে চড়ে ভোট করেছিল। তাঁর নেতা বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় বলেছিলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপস নেই। তাঁরা নির্বাচন বয়কট করেন। স্বৈরাচারকে ঘরে ঢ়ুকিয়ে নির্বাচন করব বলে আন্দোলন-সংগ্রাম করে তাদের ঘরে ঢ়ুকিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন তাঁরা। ওই সময় আওয়ামী লীগ-জামায়াত বিএনপির বিপক্ষে ছিল, এখনো আছে। তিনি বলেন, বিনা ভোটে শাহরিয়ার আলম এমপি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। বাঘা-চারঘাট এলাকার আড়ানীতে তিনি বাড়ি করেছেন, এখানেও তাঁর কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু তিনি ভোলাই হাজির নাতিজামাই বলে পরিচয় দেন। ভোলাই হাজির একটি মাত্র ছেলে, তাঁর নাম ইমাজ উদ্দীন। ভোলাই হাজির বাড়িতে সব সময় ২০-৩০ জন ছেলেমেয়ে লালনপালন করতেন। তাদের লালনপালন করে বিয়ে দিতেন। এলাকায় ভোলাই হাজির এটাই ইতিহাস। কিন্তু শাহরিয়ার আলম এলাকায় তাঁকে পুঁজি করে এসে জনগণকে বিভ্রান্তি করা শুরু করেন। বর্তমানে রাশিয়া থেকে ভাষণ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। আরে, তোর বাড়ি তো ভেঙে দিতাম। তুই এখনো ভালো আছিস। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলি। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৭ বছর হয়রানি করেছিস। পালিয়ে না থেকে চারঘাট-বাঘায় এসে রাজনীতি কর। ডিসেম্বরে নাকি শেখ হাসিনা দেশে আসবে। আরে মিয়া, কারে ভয় দেখাও, মোদির কাছ থেকে নাকি রাশিয়া থেকে, এতে আমরা ভয় করি না। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিলেন। আবারও পাঁয়তারা শুরু করেছ। এর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশে আসো, তোমার জন্য ফাঁসি প্রস্তুত করে রেখেছি, তুমি আসলেই ফাঁসি কার্যক্রম শুরু করা হবে। আর শাহরিয়ার ফেসবুকের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে জনগণকে সাহস দিস, এ সাহস পাস কোথা থেকে। ২০১৪ সালে তোমরা ক্ষমতায় ছিলে, ওই সময় তোমাদের সঙ্গে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, ওই সময় তোমরা কিছুই করতে পারনি। তাই রাশিয়া-ভারত থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করিস না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক। আড়ানী পৌর ও ইউনিয়নের বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যানারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার। আড়ানী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বিল্টুর সঞ্চালনায় এবং যুবদল নেতা মহিদুল ইসলাম জুয়েলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল, বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, জেলা যুবদলের সদস্য জয়নাল আবেদীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রাসু প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য আগের দিন মাইকিং করে গত বুধবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আড়ানী পৌর বাজার ও স্টেশন বাজার বন্ধ রাখা হয়।
