Logo
Logo
×

জাতীয়

সবজি ও মাছের দামে অস্থিরতা, স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা

asif

asif

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

সবজি ও মাছের দামে অস্থিরতা, স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি-: রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সবজি ও মাছের দাম একদিন বাড়ছে, আবার অন্যদিন কিছুটা কমছে। অন্যদিকে, ডিম ও মাছের দামও বেশ কিছুদিন ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা, অর্থাৎ ২০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে লম্বা বেগুন গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজি দামেই বর্তমানে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি ২২০ থেকে ২৩০; যা কিছুদিন আগেও ১৮০ থেকে ২০০ ছিল। কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তবে টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। গাজর গত সপ্তাহের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় সবজির দাম ৮০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে তা ৮০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনি¤œ দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে পটল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতে ৮০ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম প্রতিদিন একরকম থাকে না। আড়তে সরবরাহ ও কেনা দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করে। কোনোদিন সরবরাহ কম থাকলে দাম বেড়ে যায়, আবার সরবরাহ বাড়লে কিছু সবজির দাম কমে। নারিন্দা বাজারে সবজি কিনতে আসা রফিকুল ক্রেতা বলেন, বাজারে সবজির দাম এখনও পুরোপুরি সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অনেক সবজি আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলে মোট খরচ বেশ বেড়ে যাচ্ছে। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যে বাজার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা জুয়েল শেখ বলেন, আড়তে মাছের দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। তাই কেনা দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে মাছের দামও কমানো সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহে ধরেই একই রকম রয়েছে মাছের বাজার। ধুপখোলা বাজারের ক্রেতা মো. নুর নবী বলেন, মাছ, মুরগি ও মাংসÑকোনোটির দামই তেমন কমেনি। কয়েকদিন ধরে প্রায় একই দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ও মাংসের দামও আগের মতোই আছে। ফলে বাজারে এসে খুব একটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। সাদা রঙের ডিম হলে দাম ১০ টাকা কমে পাওয়া যায়। মাস দেড়েক আগেও এ দামেই ডিম বিক্রি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়। আর হাইব্রিড তথা কালারবার্ড সোনালি মুরগির কেজি ৩০০-৩৩০ টাকা। এই মুরগির দামও গত এক-দুই সপ্তাহে কমেনি। সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহ-মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম ওঠানামা করে। কিন্তু এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম একই জায়গায় রয়েছে। রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা সোহেল শেখ বলেন, ডিমের দাম কয়েকদিন ধরে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম খুব একটা কমছে না, তাই খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রেতারাও দাম নিয়ে অভিযোগ করছেন, তবে আমাদেরও বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। নারিন্দা বাজারে মুরগি কিনতে আসা মাহিদ হাসান বলেন, মুরগির দাম এখনও আগের মতোই আছে। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মুরগি কিনতে গেলেও বেশ ভালোই টাকা খরচ হচ্ছে। দাম কিছুটা কমলে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি হতো। বিক্রেতারা জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম-মুরগির দাম কমছে না। 

সম্পর্কিত খবর

একজন নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে ও দেশে ঢুকতেও পারে: রুমিন ফারহানা

একজন নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে ও দেশে ঢুকতেও পারে: রুমিন ফারহানা

বিআইডব্লিউটিসির ৩ জাহাজ হচ্ছে ভাসমান হাসপাতাল

বিআইডব্লিউটিসির ৩ জাহাজ হচ্ছে ভাসমান হাসপাতাল

ডাকাতি করতে এসে সন্তানকে বেঁধে রেখে মাকে গণধর্ষণ

ডাকাতি করতে এসে সন্তানকে বেঁধে রেখে মাকে গণধর্ষণ

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

বগুড়ায় জাল এনআইডি তৈরির দায়ে একজনের কারাদ-

বগুড়ায় জাল এনআইডি তৈরির দায়ে একজনের কারাদ-

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম