আল কোরআন
সূরা আনকাবুত
পারা ২০-২১, আয়াত ৬৯, রুকু ৭ (মাক্কী)
৩২. ইব্রাহিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলল, সেই জনপদে তো লূতও রয়েছে! ওরা বলল, ওখানে কারা আছে, তা আমরা ভালোভাবেই জানি। আমরা লূত ও তার পরিবারকে উদ্ধার করব, শুধু তার স্ত্রীকে ছাড়া। তার স্ত্রী পেছনে অবস্থানকারী লোকদের সাথেই থেকে যাবে। ৩৩. আমার প্রেরিত ফেরেশতারা যখন লূতের কাছে এলো, তখন লূত তাদেরকে দেখে চিন্তিত ও বিষণœ হয়ে পড়ল। কারণ সে তাদের রক্ষায় নিজের অক্ষমতা ভালোভাবেই অনুভব করল। ফেরেশতারা তখন বলল, দুঃখ কোরো না, ভয়ও পেয়ো না। আমরা তোমাকে ও তোমার পরিবার-পরিজনকে উদ্ধার করব, শুধু তোমার স্ত্রী ছাড়া। কারণ সে পেছনের লোকদের সাথে থেকে যাবে। ৩৪. পাপাচারের শাস্তি হিসেবে আমি ওদের ওপর আকাশ থেকে আজাব নাজিল করেছিলাম। ৩৫. সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারী মানুষের জন্যে এ ঘটনায় শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে।
৩৬-৩৭. আমি মাদিয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শোয়ায়েবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত করো, প্রস্তুত থাকো মহাবিচার দিবসের জন্যে আর জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি কোরো না। কিন্তু ওরা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। ভয়াবহ ভূমিকম্প ওদের গ্রাস করল, নিজেদের ঘরবাড়িতেই ওরা উপুড় হয়ে নিষ্প্রাণ পড়ে রইল।
৩৮. আমি আদ ও সামুদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলাম। ওদের বিধ্বস্ত ঘরবাড়িই এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। শয়তান ওদের কাজকে ওদের জন্যে চাকচিক্যময় ও মোহনীয় করে রেখেছিল। সত্যকে বোঝার শক্তি দেয়া সত্ত্বেও শয়তান ওদের সৎপথ থেকে সরিয়ে রেখেছিল।
আল হাদিস
ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ২০৫২-২০৫৩
উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত-
একজন কালো মেয়েলোক এসে দাবি করলো যে, সে তাদের উভয় (উকবা ও তার স্ত্রী)-কে দুধ পান করিয়েছে। তিনি এ কথা নবী (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করলে নবী (ﷺ) তাঁর হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, “কিভাবে? অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে।” তাঁর স্ত্রী ছিলেন আবু ইহাব তামীমীর মেয়ে।
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত-
উতবা ইবনু আবু ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে ওসিয়ত করে যান যে, যাম‘আর দাসীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত; তুমি তাকে (ভ্রাতুষ্পুত্র রূপে) তোমার অধীনে নিয়ে আসবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) নিয়ে নেন এবং বলেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে এর সম্পর্কে ওসিয়ত করে গেছেন।
এদিকে জমআ’র পুত্র আবদ দাবি করে যে, এটি আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর পুত্র। তার শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর উভয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলেন। সাদ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওসিয়ত করে গেছে এবং আবদ ইবনু জমআ বলেন, আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর পুত্র, তার সঙ্গে শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে।
তখন নবী (ﷺ) বললেন, হে আবদ ইবনু জমআ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী যে, বঞ্চিত সে।
এরপর তিনি নবী সহধর্মিণী সাওদা বিনতে জমআ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি ঐ ছেলেটির থেকে পর্দা করবে। কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পান। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর সাওদা (রাঃ)-কে দেখেনি।
