সূরা নমল
পারা ১৯-২০, আয়াত ৯৩, রুকু ৭ (মাক্কী)
৭৩. নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। কিন্তু এদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। ৭৪. তারা যা মনের গভীরে লুকিয়ে রাখে আর যা প্রকাশ করে, তোমার প্রতিপালক সবই জানেন। ৭৫. মহাকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোনো গোপন রহস্য নেই, যা তাঁর লিপিকায় লিপিবদ্ধ নেই।
৭৬. বনি ইসরাইলের মধ্যে যে-সব বিষয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সে-সবের অধিকাংশের ব্যাখ্যাই কোরআন তাদের কাছে পেশ করেছে। ৭৭. আর নিশ্চিতই বিশ^াসীদের জন্যে কোরআন হেদায়েত ও রহমতস্বরূপ। ৭৮. (হে নবী!) তোমার প্রতিপালক অবশ্যই তাঁর প্রজ্ঞা দ্বারা ওদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ। ৭৯. তাই আল্লাহর ওপরই ভরসা করো। অবশ্যই তুমি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৮০-৮১. (হে নবী!) তুমি মৃতকে তোমার কথা শোনাতে পারবে না। আর যে বধির তোমাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, তাকেও তোমার কথা বোঝাতে পারবে না। আর যে (অন্তরে) অন্ধ, তাকেও বিভ্রান্তি থেকে আলোর পথে আনতে পারবে না। তুমি শুধু তাদেরকেই তোমার কথা শোনাতে পারবে, যারা আমার বাণীতে বিশ^াস করতে ইচ্ছুক। আর তারাই আমাতে সমর্পিত হয়।
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২০৬
আবূ হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত-
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গির্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ! (এক দিকে) আমার মায়ের ডাক আর (অন্য দিকে) আমার সালাত!
মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ! আমার মা ও আমার সালাত!
মা বললেন, হে আল্লাহ! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরায়জের গির্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল।
তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তাঁর গির্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবুস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল।
