আল কোরআন
সূরা কাসাস
পারা ২০, আয়াত ৮৮, রুকু ৯ (মাক্কী)
৭১. (হে নবী!) ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি রাতের অন্ধকারকে কেয়ামত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন উপাস্য আছে, যে তোমাদের দিনের আলো এনে দিতে পারবে? তবুও কি তোমরা সত্য স্বীকার করে নেবে না? ৭২. ওদের আরো জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি দিনের আলোকে কেয়ামত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন উপাস্য আছে, যে তোমাদের বিশ্রামের জন্যে রাতের আবির্ভাব ঘটাতে পারবে? তবুও কি তোমরা সত্য স্বীকার করে নেবে না?
৭৩. তিনি করুণাবশত তোমাদের জন্যে রাত ও দিনের ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তোমরা (পর্যায়ক্রমে) বিশ্রাম নিতে পারো, আর তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদ থেকে তোমাদের প্রয়োজন অনুসারে সংগ্রহ করে শোকরগোজার হতে পারো। ৭৪-৭৫. (আর মনে রেখো) সেই (মহাবিচার) দিবসে তোমাদের তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমরা আমার সাথে যাদেরকে শরিক করতে, তারা আজ কোথায়?’ (তখন শরিককারীরা চুপ করে থাকবে) এরপর প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন (রসুলকে) সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব, (দুনিয়ায় এ দুরাচারীদের) যারা বলেছিল, তোমরা যা দাবি করছ, তার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করো!’ তখন এই পাপীরা বুঝতে পারবে, আল্লাহই চূড়ান্ত সত্য (তিনিই একমাত্র উপাস্য) আর তাদের কল্পিত উপাস্যরা সব উধাও হয়ে গেছে।
৭৬-৭৭. সন্দেহ নেই, কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত। কিন্তু সে তাদের ওপরই জুলুম করতে শুরু করল। আসলে আমি তাকে এত বেশি ধনসম্পত্তি দিয়েছিলাম যে, একদল লোকের পক্ষেও সিন্দুকের চাবিগুলো বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ করো! তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, ‘অহংকার কোরো না। আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না। আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তা দিয়ে আখেরাতের কল্যাণ অনুসন্ধান করো। অবশ্য পার্থিব বৈধ ভোগসম্ভোগ থেকে নিজেকে আলাদা রাখার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ যেমন তোমাকে অনুগ্রহ করেছেন, তেমনি তুমিও মানুষের প্রতি সদয় হও (মানুষের উপকার করো)। আর ফ্যাসাদ সৃষ্টি কোরো না। আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের অপছন্দ করেন।’
আল হাদিস
সাহু সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২৩২-১২৩৩
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত-
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে শয়তান এসে তাকে সন্দেহে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে পারে না যে, কত রাকাত সালাত আদায় করেছে। তোমাদের কারো এ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করে।
কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিত-
ইবনু আব্বাস, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা এবং আবদুর রহমান ইবনু আযহার (রাঃ) তাঁকে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন এবং বলে দিলেন, “তাঁকে আমাদের সকলের তরফ হতে সালাম পৌঁছিয়ে আসরের পরের দুই রাকাত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তাঁকে একথাও বলবে যে, আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনি সে দুই রাকাত আদায় করেন, অথচ আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, নবী (ﷺ) সে দুই রাকাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।”
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সংবাদে আরও বললেন যে, “আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে এ সালাতের কারণে লোকদের মারধোর করতাম।”
কুরাইব (রহঃ) বলেন, “আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে তাঁদের পয়গাম পৌঁছিয়ে দিলাম।”
তিনি বললেন, “উম্মু সালামা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস কর।”
[কুরাইব (রহঃ) বলেন] “আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাঁদের নিকট গেলাম এবং তাঁদেরকে আয়েশা (রাঃ)-এর কথা জানালাম। তখন তাঁরা আমাকে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট যে বিষয় নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে পুনরায় উম্মু সালামা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন।”
