সূরা কাসাস
পারা ২০, আয়াত ৮৮, রুকু ৯ (মাক্কী)
২৩. মাদিয়ানের এক পানির কূপের কাছে পৌঁছার পর মুসা দেখল, একদল লোক গবাদি পশুকে পানি পান করাচ্ছে আর একটু দূরে দুই বালিকা তাদের গবাদি পশুগুলোকে সামাল দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। সে বালিকাদের জিজ্ঞেস করল, ‘তোমাদের কী সমস্যা?’ ওরা বলল, ‘রাখালেরা ওদের পশুর পাল সরিয়ে নিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের পশুগুলোকে পানি খাওয়াতে পারি না। আমাদের বাবা অতিবৃদ্ধ।’
২৪-২৫. মুসা ওদের পশুগুলোকে পানি খাইয়ে এক গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে অনুগ্রহই তুমি আমাকে করো না কেন, তা-ই আমার বিশেষ প্রয়োজন।’ কিছুক্ষণ পর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জায় জড়সড় হয়ে তার কাছে এসে বলল, ‘আব্বা আপনাকে ডাকছেন। আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি খাইয়েছেন, এজন্যে তিনি আপনাকে পুরস্কার দেবেন।’ মুসা বৃদ্ধের কাছে গিয়ে তার সকল ঘটনা বলল। সব শুনে সে বলল, ‘ভয় কোরো না, তুমি জালেমদের হাত থেকে বেঁচে গেছ।’ ২৬. বালিকাদ্বয়ের একজন বলল, ‘আব্বা, তাকে কাজে নিযুক্ত করুন। সবচেয়ে ভালো কর্মচারী সে-ই হবে, যে শক্তিমান ও বিশ^স্ত।’
২৭. তাদের পিতা মুসাকে বলল, ‘আমি আমার দুই মেয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। শর্ত হচ্ছে, তুমি আট বছর আমার এখানে কাজ করবে। যদি ১০ বছর করতে চাও, তা তোমার ইচ্ছা। (এটাই বিয়ের দেনমোহর) আমি তোমার ওপর কোনো কষ্ট চাপিয়ে দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ! তুমি আমাকে সদাচারী হিসেবেই পাবে।’ ২৮. মুসা (তার সম্মতি প্রকাশ করে) বলল, ‘আমরা চুক্তিবদ্ধ হলাম। এ দুটি মেয়াদের যে-কোনো একটি পূরণ করলে আমার আর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। আল্লাহ আমাদের চুক্তির সাক্ষী থাকবেন।’
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২২২
আবূ হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত-
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: সালাতের আজান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আজান শুনতে না পায়। তখন তার পশ্চাৎবায়ু নি:সরণ হতে থাকে। মুয়াজ্জিন আজান শেষে নীরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইকামত বলা হলে পালিয়ে যায়। মুয়াজ্জিন (ইকামত) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না। শেষ পর্যন্ত কত রাকাত সালাত আদায় করল তা মনে করতে পারে না।
আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রহ:) বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দুইটি সিজদা করে। এ কথা আবু সালামা (রহ:) আবু হুরায়রা (রা:) হতে শুনেছেন।
