সূরা নমল
পারা ১৯-২০, আয়াত ৯৩, রুকু ৭ (মাক্কী)
৮৭-৮৮. যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, সেদিন আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্তরা ছাড়া মহাকাশ ও পৃথিবীর সকলেই ভীতিবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং অবনতমস্তকে তাঁর কাছে হাজির হবে। আজ তুমি যে পর্বতমালাকে অচল-অটল দেখছ, সেদিন এগুলো হবে মেঘমালার মতো চলমান। আল্লাহ সবকিছুই সুনিপুণ করে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা যা করছ, সে-বিষয়ে তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
৮৯-৯০. যারা সৎকর্ম করবে, তারা সকল শঙ্কা থেকে সেদিন নিরাপদ থাকবে এবং উত্তম পুরস্কার পাবে। আর যারা অন্যায় ও পাপে লিপ্ত থাকবে, তাদের অধোমুখী করে জাহান্নামে ফেলা হবে আর বলা হবে, ‘তোমরা এখন তোমাদের কর্মফল ভোগ করো।’
৯১-৯২. (হে নবী!) ওদের বলো, ‘আমি তো কেবল এই নগরীর (মক্কার) প্রভুর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি এই নগরীকে সম্মানিত করেছেন। আমি আরো আদিষ্ট হয়েছি যে, আমি যেন সমর্পিতদের অন্তর্ভুক্ত হই এবং কোরআনের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেই।’ অতএব যে সঠিক পথ অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেবে, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যেই তা করবে। আর কেউ ভ্রান্ত পথে চললে তুমি বলো, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র!’
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২১১
আযরাক্ব ইব্নু ক্বায়স (রা:) হতে বর্ণিত-
আমরা আহওয়ায শহরে হারুরী (খারিজী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলাম। যখন আমরা নহরের তীরে ছিলাম তখন সেখানে এক ব্যক্তি এসে সালাত আদায় করতে লাগল আর তার বাহনের লাগাম তার হাতে আছে। বাহনটি (ছুটে যাওয়ার জন্য) টানাটানি করতে লাগল, তিনিও তার অনুসরণ করতে লাগলেন। রাবী শু‘বাহ (রহ:) বলেন, তিনি ছিলেন আবু বরজাহ আসলামি (রা:)। এ অবস্থা দেখে এক খারিজী বলে উঠলো, হে আল্লাহ! এ বৃদ্ধকে কিছু করুন।
বৃদ্ধ সালাত শেষ করে বললেন- আমি তোমাদের কথা শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে ছয়, সাত কিংবা আট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমি তাঁর সহজীকরণ লক্ষ্য করেছি। আমার বাহনটির সাথে আগপিছ হওয়া বাহনটিকে তার চারণভূমিতে ছেড়ে দেয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা, তা আমার জন্য কষ্টদায়ক হবে।
