দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দিন দিন কেবল ঘনীভূতই হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুনখারাবি, চুরি, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জননিরাপত্তার এই চরম অবনতির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ ও ভয়ংকর বিস্তার। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের ২১টি জেলায় ১৩৮টি গুলির ঘটনায় ৬৭ জনের প্রাণহানি এবং অন্তত ১৪৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো এলাকায় এ ধরনের সহিংসতা ও খুনাখুনি জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া হাজার হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো সন্ত্রাসীদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের অব্যাহত স্রোত। অপরাধীদের হাতে থাকা এসব অবৈধ অস্ত্রই আজ জনজীবনের প্রধান নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার হলেও, অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে সেই অর্জনগুলো ম্লান হতে বসেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু অস্ত্রের ঝনঝনানি অব্যাহত থাকলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অপরাধীরা যখন দেখে যে অবৈধ অস্ত্রের জোরে পার পেয়ে যাওয়া যায়, তখন তাদের অপরাধপ্রবণতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা মনে করি, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই নৈরাজ্য থামানো যাবে না। অবিলম্বে সারা দেশে যৌথ ও সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সমস্ত অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে যেন নতুন করে কোনো অস্ত্রের চালান দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা আবশ্যক। অপরাধের মূল হোতাদের কঠোর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করলেই কেবল জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
