নকল দুধের কারবার ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জরুরি
asif
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
একটি জাতির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। আর পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় দুধের অবস্থান সব সময়ই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ থেকে গর্ভবতী নারী, সবার জন্যই দুধ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। কিন্তু সেই দুধ যদি ভেজাল, রাসায়নিক এবং প্রতারণার বাহনে পরিণত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু খাদ্য নিরাপত্তার নয়, সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নকল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার যে তথ্য সামনে আসছে, তা উদ্বেগজনকই নয়, আতঙ্কজনকও। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্লুকোজ, ডিটারজেন্ট, কস্টিক সোডা, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম দুধ। পরবর্তীতে সেই দুধ স্থানীয় সংগ্রহকেন্দ্র হয়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সাধারণ ভোক্তা খাঁটি ও ভেজাল দুধের পার্থক্য সহজে বুঝতে পারেন না। ফলে প্রতিদিন অজান্তেই তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এ ধরনের অপরাধের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ হতে পারে। রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্য কিডনি, লিভার, পরিপাকতন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। অথচ অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়ংকর এই ছিনিমিনি খেলছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে প্রকৃত খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যারা কষ্ট করে খাঁটি দুধ উৎপাদন করছেন, তারা বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে অনেক ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন দুধ উপেক্ষিত হচ্ছে, আর ভেজাল দুধ সহজে বাজারজাত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে ভোক্তা প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে সৎ উৎপাদক নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, দিনের পর দিন এ ধরনের কর্মকা- চললেও সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কোথায়? মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তুলনামূলক কম। জরিমানা বা সাময়িক শাস্তি দিয়ে এত বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, নকল দুধসহ খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐকবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা জরুরি। ভেজাল উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
