সাইপ্রাসে বাংলাদেশি এক যুবককে হত্যার দায়ে আসামির যাবজ্জীবন
asif
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
বিদেশ প্রতিনিধি: সাইপ্রাসে বাংলাদেশি নাগরিক ২২ বছর বয়সী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন দেশটির আদালত। গত মঙ্গলবার পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অভিযোগে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৭ জুন একটি বাসে ২২ বছর বয়সী ওই আসামির সঙ্গে ইমনের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগের নম্বর আদান-প্রদান হয়। বাসে তাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল বলেও জানা যায়। এরপর গত ৯ জুন ওই ব্যক্তি একটি ছুরি কেনেন। পরবর্তীতে ১১ জুন ভুক্তভোগী ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানান, তিনি দিনে ৫০ ইউরো বেতনের একটি কাজ জোগাড় করে দিয়েছেন। ইমনের রুমমেটের তথ্য অনুযায়ী, ইমন তাকে লারনাকা জেলার কোফিনৌ গ্রামের একটি মুরগি উৎপাদন কারাখানায় নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বললেও বিস্তারিত কিছু জানাননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে ইমনের বাবা মোবাইলে একটি মেসেজ পান, যেখানে লেখা ছিল- “দয়া করে আমাকে বাঁচান, না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।” ইমনের বাবার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো দাবি করেছিল অপরাধী। এর কিছুক্ষণ পর ইমনের বাবা আরো কিছু মেসেজ পান। সেখানে আগামী ১৪ জুনের মধ্যে ৩৫ হাজার ইউরো পরিশোধের দাবি জানানো হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না পেলে তার ছেলের কিডনি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হবে। ইমনের বাবা তার ছেলের রুমমেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি ইমনের কোনো ক্ষতি না করার জন্য মেসেজপ্রেরককে অনুরোধ জানান। এরপর একই দিন স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ইমনের বাবার ফোনে আরো একটি মেসেজ পাঠান ওই অপরাধী, সেখানে বলা হয় ১৪ জুনের মধ্যে যদি ১০ হাজার ইউরো না পাওয়া যায়, তাহলে সে ইমনের কিডনি কেটে ফেলবে। এটিই ছিল ইমনের বাবার পাওয়া সর্বশেষ মেসেজ। সরকারি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির মাধ্যমে আবেদন করার পর গত ১৬ জুন ইমনের নিজে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি লারনাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেননি। ২২ বছর বয়সী ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, সে ইমনকে কোফিনৌ কসাইখানার কাছের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এরপর সে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সে ইমনের মরদেহ টেনে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যায় এবং তাকে আবারো শ্বাসরোধ করে। পরে মরদেহের ওপর খড় চাপা দিয়ে সে নিজের বাড়িতে ফিরে হাত ও জুতো ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে পুলিশ নির্জন ওই স্থান থেকেই ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে। তথ্যসূত্র: সাইপ্রাস মেইল
