Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

asif

asif

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
দিনে দিনে প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে লেগেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে যোগাযোগব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। অন্যদিকে অপরাধীচক্র এই প্রযুক্তিকেই বানিয়েছে হাতিয়ার। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু মানুষের জীবন অসনীয় করে তুলেছে। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি অনেকে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির শিকারও হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সাইবার জগতের অপরাধীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এআই ঘিরে বড় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা হলো সত্য-মিথ্যার ভেদরেখা মুছে দেওয়া। এআই ব্যবহার করে অনেক ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক বোঝার উপায় থাকে নাÑএটি সত্য, নাকি নকল। অনেকে সত্য মনে করে সেই কনটেন্ট ছড়াতে থাকেন। অনেক সময় দেখা গেছে, সামাজিক উত্তেজনা তৈরি করে একটি দল নিজেদের ফায়দা হাসিল করে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম-এর ওয়েবসাইট অনুসারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে এমন এক প্রযুক্তি যা কম্পিউটার এবং যন্ত্রকে মানুষের মতো করে শিখতে, বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং স্বয়ংকৃত হতে সক্ষম করে তোলে। অতি বুদ্ধিসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অচিরেই মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে মানবজাতিকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা পকেটে যে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘুরছি, হাতে যে ডিজিটাল ওয়াচ পরছি, দিনে অন্তত বার কয়েক যে ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট চেক করছি, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যে মেসেজ চালাচালি করছি সবকিছুতেই ইদানীংকালে একটা বাড়তি সংযুক্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট-এর একটা তুলনামূলক উপাত্ত দিয়ে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র বর্তমান ব্যাপ্তি আর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সর্বগ্রাসী চরিত্রের কিছুটা হয়তো বোঝা যাবে– যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালে ‘এআই’ভিত্তিক প্রযুক্তি সেবার বৈশ্বিক বাজার মূল্য ছিল ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজার মূল্য ছিল ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩৩ সাল নাগাদ এআই-এর ক্ষেত্রে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৭৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে আর তখন বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবসার বৈশ্বিক বাজার মূল্য হবে ১ হাজার ৪৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, বর্তমানে পুরো আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশের মোট জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে ৩ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই যুগে বসে প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো বিষয়ের ভালো-মন্দ উভয় দিক থাকে। আমাদের ভালো দিক গ্রহণ করতে হবে। যারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচেয়ে জরুরি সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ। 

সম্পর্কিত খবর

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

সড়ক দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে প্রাণহানি নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি

সড়ক দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে প্রাণহানি নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি

অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশায় বাড়ছে ভোগান্তি শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি

অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশায় বাড়ছে ভোগান্তি শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম