জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রথম কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। এর আগে টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। গত রোববার পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে গত রোববার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গতকাল সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে দরপতনের মাত্রা আরও বাড়ে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১০টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৩টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮১টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ২৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত ১৮ আগস্টের পর ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হলো। ১৮ আগস্ট ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বেক্সিমকো, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুেরন্স, ফারইস্ট নিটিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুেরন্স। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯০টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা।
