উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে
asif
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে পথচারীদের নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য। কিন্তু ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশই হকারদের দখলে। কোথাও দোকানের পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একাংশও দখল করে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই পরিস্থিতি থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তার সুফল স্থায়ী হচ্ছে না। সকালে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, বিকেলেই আবার আগের জায়গায় দোকান বসছে। এভাবে বছরের পর বছর চলতে থাকা উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের চোর-পুলিশ খেলা এখনই বন্ধ করতে হবে। এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিছুদিন আগেই পল্টন থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিবন্ধিত হকারদের বসার সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত স্থান, সময় ও নিয়মের বাইরে ব্যাবসা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই আবার সেই ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যায়। অন্যদিকে মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো, উচ্ছেদের পর হকাররা আবার ফুটপাতে ফিরে আসছেন কীভাবে? এর পেছনে শুধু হকারদের দায়ী করলেই চলবে না। অনেক ক্ষেত্রেই ফুটপাতে দোকান বসানোর সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চক্রের নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে টাকা আদায় এবং সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা এই দখলের পেছনের মূল কারণ। এতে করে উচ্ছেদ অভিযানে সামনের সারিতে থাকা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁদের আবার বসানোর ব্যবস্থা যারা করে, তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে, হকারদের জীবিকার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। অনেক মানুষের সংসার চলে ফুটপাতে ছোট দোকান চালিয়ে। তাঁদের উচ্ছেদ করে বিকল্প কর্মসংস্থান বা ব্যবসার জায়গা না দিলে তাঁরা আবারও আগের জায়গায় ফিরে আসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে জীবিকার প্রয়োজন দেখিয়ে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে রাখারও সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও সংখ্যার ভিত্তিতে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো, উচ্ছেদ অভিযানকে এক দিনের কার্যক্রম হিসেবে না দেখা। যে এলাকা দখলমুক্ত করা হবে, সেখানে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। নতুন করে দোকান বসানো ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফুটপাত দখলের পেছনে অর্থ আদায়কারী ব্যক্তি ও চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি নগরবাসীর চলাচলের অধিকার। তাই হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ফুটপাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। উচ্ছেদের নামে লোকদেখানো কার্যক্রম বন্ধ করে ধারাবাহিক নজরদারি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং দখলের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই এই চোর-পুলিশ খেলার অবসান ঘটবে।
