জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে
asif
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির চাপে আগে থেকেই বিপর্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ধাক্কা দেশের পুরো অর্থনীতিতে লাগতে শুরু করেছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য না থাকলে তেল পাচারের ঝুঁকি থাকেÑ এমন যুক্তি দেখিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধিকে একপ্রকার অনিবার্য বলা হয়েছে। বিপিসির ব্যবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতি কমানোর এই যুক্তি কারিগরিভাবে সত্য হতে পারে, তবে এর সামগ্রিক সামাজিক অভিঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার অনিবার্য প্রভাবে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম আরও চড়ে বসবে। এমনিতেই দেশে মূল্যস্ফীতি আট শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে; তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। মুষ্টিমেয় কিছু সরকারি চাকরিজীবীর বেতন বাড়লেও দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ খেটে খাওয়া মানুষ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন তলানিতে ঠেকেছে, তখন তেলের দাম বাড়ানো তাদের বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে। অতীতেও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কেবল বিপিসির লোকসান কমানোর চিন্তায় পুরো জাতিকে এমন একটি অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কল্যাণকর হতে পারে না। আমরা মনে করি, জ্বালানি তেলের দাম একলাফে বাড়ানোর পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিপিসির লোকসান সমন্বয় করা উচিত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে বাজার মনিটরিং কঠোর করা, পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সবচেয়ে বড় দাবি।
