দুই কোটি টাকার সড়ক, কাজ হয়েছে এক কিলোমিটার দুর্ভোগে মানুষের
asif
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি - সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় দুই কোটি সাত লাখ টাকা। কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তিন কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার সংস্কারের পরই থেমে গেছে কাজ। এরপর কেটে গেছে কয়েক মাস। পড়ে আছে বাকি দুই কিলোমিটার সড়ক। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টিতে এসব গর্তে জমেছে কাদা-পানি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন।এ চিত্র ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া ভায়া ধুরধুরিয়া সড়কের। দীর্ঘদিনের বেহাল সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এতে ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত। কোনো কোনো স্থানে পিচ উঠে গিয়ে মাটি ও খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো পরিণত হয়েছে ছোট ছোট জলাধারে। একটি বড় গর্তে মালবোঝাই ট্রলি আটকে থাকতে দেখা যায়। ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক অটোরিকশা ও সিএনজি গর্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা ও সিএনজি গর্তে পড়ে উল্টে যাচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালক আহত হচ্ছেন। বড় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষকে।তিন কিলোমিটারের কাজ, চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৭ লাখ টাকাএলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা অভিমুখী ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কের তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেসার্স সাইফুল ইসলামকে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। মে মাসের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করার পর বাকি দুই কিলোমিটারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না হওয়ায় সড়কের অবশিষ্ট অংশ আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত বড় অঙ্কের অর্থের কার্যাদেশ দেওয়ার পরও কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না? কাজ বন্ধ থাকার কারণে সড়কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংস্কারের ব্যয় ও জনদুর্ভোগ-দুটিই কি বাড়বে না?দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ভয়ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি আলিয়া মাদরাসা, একটি নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাশ^বর্তি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ধুরধুরিয়া আলিম মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সড়কটি এখন বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী অটোরিকশা বা ভ্যানে না গিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।স্থানীয় ইমরান হোসেন বলেন, “সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন আসা-যাওয়ার সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অটোরিকশা বা সিএনজিতে চলাচলের সময় কখন গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় থাকে। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি কাত হয়ে যায়।”স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “সড়কের কাজ উদ্বোধন হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু একাংশের কাজ করে বাকি কাজ বন্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অটোরিকশা ও সিএনজি গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।”‘বিল পাইনি, বিটুমিনও পাওয়া যাচ্ছে না’কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ করে বিলের আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে এক টাকাও বিল দেওয়া হয়নি। তাছাড়া বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদল শেষ হলে দ্রুতই কাজ শেষ করে ফেলব।”তবে এলজিইডির পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন। তিনি বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিটুমিনের কাজ করা কঠিন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।”দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিস্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু আশ^াস নয় সড়কের অবশিষ্ট দুই কিলোমিটারের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। পাশাপাশি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় গর্তগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির ক্ষতি আরও বাড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগও চরম আকার ধারণ করতে পারে।
