জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে সচিবালয় অভিমুখে ১১ দলের পদযাত্রায় পুলিশের বাধা
asif
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রাজনৈতিক প্রতিনিধি - জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। তবে বাধার মুখে পড়েই ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানমুখর হয়ে উঠেছে সচিবালয় এলাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ এগারো দলীয় ঐক্যজোটের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্লোগান দেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এসময় এগারো দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সচিবালয়ের সামনে জামায়াত আমির বলেন, যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তিনি বলেন, তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেবো। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকবো না। ব্যর্থ হলে আমরা আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে। এসময় নাহিদ ইসলাম স্লোগান দেন ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ উপস্থিত এগারো দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘নইলে গদি ছাইড়া দে’। এই স্লোগানে অন্তত ১০ মিনিট মিছিল করেছেন এগারোদলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। বেলা দেড়টার দিকে জামায়াত আমিরের আহ্বানে কেউ সাড়া না দিলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সচিবালয় থেকে এখানে পায়ে হেঁটে আসতে পাঁচ মিনিট লাগে না, সেখানে ১৫-২০ মিনিট চলে গেছে কিন্তু তারা কেউ আসলো না। আমরা ধরে নিচ্ছি তারা ভয় পাচ্ছে। এসময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি। জামায়াত আমির বলেন, আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি। সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধিকে এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেবো। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকবো না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে। পুলিশের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, দেশের জনগণের অধিকার আদায়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে দ্বিগুণ শক্তিতে তা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম প্রত্যাহারেরও দাবিও জানান তিনি। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার পদে পদে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসময় ছাত্রদলকে নিয়েও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রদল আবারও ছাত্রলীগের রূপে হল দখলের পাঁয়তারা করছে।
