Logo
Logo
×

জামায়াত

জামায়াত এমপি নজরুলকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা, ঝাড়ু মিছিল

asif

asif

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

জামায়াত এমপি নজরুলকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা, ঝাড়ু মিছিল

এফএনএস: একাধিক বিতর্কিত ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ভিডিওকা-ে ক্ষোভ ও প্রতীকী ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজে’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। হাতে ঝাড়ু ও সংসদ সদস্যের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অবাঞ্চিত ঘোষণার পাশাপাশি তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবি করা টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই সৃষ্টি বলে দাবি করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর কাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে। পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীরা ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না, হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কই এবং শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা-সহ নানা স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক মানবববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তারা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জানান। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে নারী নেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, আমরা নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা চাই। শুধু মুখে বড় কথা বললেই হবে না, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু একের পর এক বিতর্কে তারা আজ প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। নাগরিক নেতা অধ্যক্ষ আবু সাইদ ও আশিকি এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশ এবং এমপি নিজেই ফেসবুকে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এমনকি স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে পুরো শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সমাবেশ চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। কাবিননামা অনুযায়ী, বরের নাম জি এম নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত জনাব আলী গাজী, মাতা: কাঞ্চন বিবি; সাং- ইসমাইলপুর, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)। কনের নাম মরিয়ম খাতুন (পিতা: মো. মাসুম বিল্লাহ, মাতা: কাকুলী; সাং- দেবীপুর, গাবুরা, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)। কাবিননামা অনুযায়ী কনের জন্মতারিখ ২২/০৫/০৮ ইং এবং বিয়ের তারিখ ১৭/০৬/২০২৪ ইং। কাবিননামায় দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। ভিডিও ও কাবিননামা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারীটি তার আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী (মরিয়ম খাতুন)। তিনি জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বয়স ও পারিবারিক ব্যবধানের কারণে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্তের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন। এদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, কাবিননামার সত্যতা ও পারিবারিকভাবে বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। এছাড়া পুরো ঘটনাটির পেছনে কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চক্রান্ত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির পাশেই এমপি সাহেবের বাড়ি। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের কথা আগে কখনও শুনিনি। আজকেই প্রথম শুনলাম। আরেক প্রতিবেশী আব্দুল আলিম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম এমপি সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী আছে। এর আগে জানতাম উনার একটিই বিয়ে। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। তাকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা। ইতোমধ্যে বিষয়টি হয়ে পড়েছে টক অব দ্য কান্ট্রি।

 

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম