কিয়ামতের দিন যারা সর্বপ্রথম বিচারের সম্মুখীন হবে
asif
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
তাদেরকে তো এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই ইবাদত করে। (সরা বাইয়্যিনাহ:৫) ইসলামে কোনো আমলের মূল্য নির্ধারিত হয় তার বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে নয়; বরং নির্ধারিত হয় নিয়ত ও ইখলাসের মাধ্যমে।
একজন ব্যক্তি কোরআনের হাফেজ, আলেম, দানশীল কিংবা মুজাহিদ হতে পারেন; কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি না হয়ে মানুষের প্রশংসা হয়, তবে সেই আমল আখিরাতে কোনো মূল্য বহন করবে না এ সত্যকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ভাষায় তুলে ধরেছে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস। হজরত সুমাইর আসবাহি রহ.বলেন, আমি একদিন মদিনায় এসে দেখলাম, বহু মানুষ একজন সাহাবিকে ঘিরে আছেন। জানতে পারলাম, তিনি আবু হুরায়রা রা.। হাদিসের মজলিস শেষ হলে আমি তাকে অনুরোধ করলাম, আমাকে এমন একটি হাদিস শুনান, যা আপনি সরাসরি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন। আবু হুরায়রা রা. হাদিসটি বর্ণনা করার আগে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্বাভাবিক হয়ে তিনি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই ভয়াবহ সতর্কবাণী বর্ণনা করেন।
কিয়ামতের দিন প্রথম যাদের বিচার হবে
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তির বিচার করা হবে, ১. একজন কোরআনের কারি (ইলম অর্জনকারী ও শিক্ষক), ২. একজন আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী, ৩. একজন ধনবান দানশীল ব্যক্তি।
প্রথম ব্যক্তি কোরআনের কারি, আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি কি তোমাকে আমার কিতাব শিক্ষা দিইনি? সে বলবে, জি, হে আমার রব! আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তুমি সেই জ্ঞানের কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি দিন-রাত কোরআন তিলাওয়াত করতাম এবং মানুষকে শিক্ষা দিতাম। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। ফেরেশতারাও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি এসব করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে কারি বা আলেম বলে। সেই প্রশংসা তো দুনিয়াতেই পেয়ে গেছ।
দ্বিতীয় ব্যক্তি দানশীল ধনবান, আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাকে সম্পদ দিয়েছিলাম। তুমি কী করেছিলে? সে বলবে, আমি দান করেছি, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছি এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। ফেরেশতারাও বলবেন, তুমি এসব করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে ‘দানশীল’ বলে। সেই প্রশংসা তুমি দুনিয়াতেই পেয়ে গেছ।
তৃতীয় ব্যক্তি শহীদ, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কেন যুদ্ধ করেছিলে? সে বলবে, আপনার পথে শহীদ হওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি যুদ্ধ করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে বীর বলে। সেই খ্যাতি তুমি দুনিয়াতেই পেয়ে গেছ। অতঃপর এই তিনজনকেই উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
শিক্ষা
কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন, দান-সদকা কিংবা জিহাদ সবই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু যদি এসবের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা, সম্মান বা খ্যাতি অর্জন হয়, তবে সেই আমল আখিরাতে কোনো উপকার করবে না। তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো প্রতিটি ইবাদত ও সৎকর্মের আগে নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা এবং সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি কাজ ইখলাসের সাথে করার তাওফিক দান করুন আমিন।
