Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা জরুরি

asif

asif

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু  স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা জরুরি

প্রতি বছর একই চিত্র। ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে, এরপর শুরু হয় তৎপরতা, সভা, অভিযান এবং নানা ঘোষণা। কিন্তু মৌসুম শেষ হলে সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে বছর ঘুরতেই ডেঙ্গু নতুন করে ফিরে আসে আরও বড় হুমকি নিয়ে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যাওয়া তাই কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ব্যর্থতারই পরিণতি। ডেঙ্গুকে এখনও অনেক ক্ষেত্রে মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ বাস্তবতা হলো, এটি আর কেবল বর্ষাকালের সমস্যা নয়। কয়েক বছর ধরে রোগটির ভৌগোলিক বিস্তার যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রাদুর্ভাবের সময়কালও দীর্ঘ হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সংকট থেকে এটি এখন জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বছরজুড়েই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি বদলেছে, কিন্তু ব্যবস্থাপনায় সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, ডেঙ্গু বিস্তারের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, মশার প্রজননস্থল এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেন। বিভিন্ন জরিপে কোথায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি, কোন ধরনের স্থানে লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে, সেসব তথ্যও উঠে আসে। কিন্তু এসব তথ্যকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো মশা নিধনকে শুধু ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। বাস্তবে এডিস মশার বিস্তার রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত পাত্র এবং জলাবদ্ধ স্থানগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় না আনলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়। অথচ এই জায়গাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা যায়। ডেঙ্গু কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের একক সমস্যা নয়। এটি নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকারের কার্যকারিতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রতিটি সংস্থার দায়িত্বও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে ব্যর্থতার দায় কেউ এড়িয়ে যেতে না পারে। আমরা মনে করি, ডেঙ্গু মোকাবিলায় মৌসুমি অভিযান নয়, বছরব্যাপী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
 

সম্পর্কিত খবর

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

সামাজিক অবক্ষয় সহিংসতা কি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে?

সামাজিক অবক্ষয় সহিংসতা কি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে?

জলাতঙ্ক কুসংস্কার নয়, সচেতনতাই বাঁচাতে পারে জীবন

জলাতঙ্ক কুসংস্কার নয়, সচেতনতাই বাঁচাতে পারে জীবন

নারী ও শিশু নির্যাতন সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে

নারী ও শিশু নির্যাতন সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে

ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট  নগর পরিবহণে বিশৃঙ্খলা দূর হোক

ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট নগর পরিবহণে বিশৃঙ্খলা দূর হোক

নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা

নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম