আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে মারধর
asif
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নিজস্ব প্রতিনিধি-: নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দোকান মালিক সমিতির এক সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে চাষাঢ়ায় সায়াম প্লাজার নিচতলায় ‘হাইমুন কসমেটিকসের’ দোকানে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। মারধরের শিকার ৭০ বছর বয়সি হাসান ইমাম শহরের চাষাঢ়ার বাসিন্দা। তিনি জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি এবং সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানটিতে প্রবেশ করেন। ভিডিওতে হাসানকে চর-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়। ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন হাসানের ছোট ভাই মো. জুয়েল। তিনি বলেন, টিপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী দোকানটিতে আসেন। পরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দোকানের ভেতরেই হাসানকে মারধর করেন টিপু ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা। “আমার বড় ভাই দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। উনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা নেতা নন। তাকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়েছে”, অভিযোগ জুয়েলের। মারধরের ঘটনার পর হাসান ইমাম রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান তার ছেলে হাইমুন হাসান। তিনি বলেন, “আমার বয়স্ক বাবাকে অনেক চর-থাপ্পড় ও ঘুষি মারা হয়েছে। রাত তিনটার দিকে তিনি হঠাৎ অনেক বমি করতে থাকেন।” অসুস্থ অবস্থায় রাতেই তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা কিছুটা সুস্থ হলে সকালে তাকে বাড়িতে আনা হয় বলে জানান ছেলে হাইমুন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা।তবে বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, “হাসান আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো কমিটিতে না থাকলেও তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির একজন অর্থ যোগানদাতা।” সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ব্যানারে হওয়া মিছিলগুলোতে হাসান অর্থায়ন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন টিপু। যদিও বিএনপি নেতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান ইমামের পরিবারের সদস্যরা। মারধরের বিষয়ে টিপু বলেন, “হাসান আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজামের লোক। বিগত দিনে তিনি অনেক অপকর্ম করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের দিনেও ওসমান পরিবারের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। “সে (হাসান) গুলশানের মতো আরেকটা মিছিল নারায়ণগঞ্জে করার জন্যও ফান্ডিং করেছে। এমন খবর পেয়ে আমি ও সাথে কয়েকজন লোক দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে উত্তেজনাবশত কয়েকজন তাকে চর-থাপ্পর দিয়েছে সত্য। কিন্তু আমিই তাদের আবার থামিয়েছি।” মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি। “এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”, বলেন ওসি।
