বাংলাদেশে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে, যার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকা- বেড়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সীমিত সক্ষমতা, দুর্বল গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের সাহসী করে তুলছে। ফলে সাধারণ মানুষ মনে করছে, অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না, বরং আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। অপরাধের বিস্তার সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ রাতে রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির চাপে পড়ছে, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপরাধের এই প্রবণতা অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা মনে করি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখনই প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সংস্কার। একই সঙ্গে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর করতে হবে, যাতে জনগণ অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে অপরাধবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে। অপরাধ দমনে বিচারপ্রক্রিয়ার সংস্কারও অপরিহার্য। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের শাস্তি থেকে বাঁচার সুযোগ করে দেয়। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আদালতের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করতে হবে। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রভাব ভেঙে দিতে হবে। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে, আর সমাজে অরাজকতা বাড়বে।
