সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস টানা দরপতনের পর চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যসূচকও। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৬টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে। আর ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক ব্যাংক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, সোনালী আঁশ, মতিন স্পিনিং, অ্যাপেক্স ফুডস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং মালেক স্পিনিং। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৫টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
