অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
asif
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক - সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে এক সরকারি চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে আটক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসার অভিযোগে ডা. মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই চিকিৎসকের অফিস থেকেও তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি পাত্তা দেন না। একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকেও নির্দেশ দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির (রেজিগনেশন) কোনো কাগজপত্র বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংরক্ষণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজারকে তীব্র ভৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক চাকরি পরিবর্তন বা অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে তার রেজিগনেশন লেটার ও এনওসি বাধ্যতামূলক। কেবল চিকিৎসকের কথার ভিত্তিতে তাকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়। লাভের আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা তাদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। অভিযান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রেখে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কেউ যদি সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান– উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
