সংসার আর কর্মক্ষেত্রের টানাপোড়েনে দিন দিন বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও অহেতুক উদ্বেগ, যা প্রভাব ফেলছে স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিজেকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখা জরুরি। আর এর জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের বিশেষ কিছু চর্চাতেই মিলবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি। মন ভালো রাখতে ও উদ্বেগ কমাতে পাঁচটি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো-
১. সিদ্ধাসন
প্রথমে মেঝের ম্যাটে পিঠ সোজা রেখে বসুন। ধীরে ধীরে শ^াস-প্রশ^াস নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে ডান পায়ের ওপর এবং একইভাবে ডান পা ভাঁজ করে বাঁ পায়ের ওপর রাখুন। এরপর দুই হাত হাঁটুতে রেখে ‘জ্ঞান মুদ্রা’ (তর্জনী ও বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে বাকি তিন আঙুল সোজা রাখা) বজায় রেখে কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসুন। এটি মন স্থির করতে সাহায্য করে।
২. বক্স ব্রিদিং
স্ট্রেস বা মানসিক চাপের হরমোন নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি শ^াসের ব্যায়াম। প্রথমে ধীরে শ^াস ছাড়–ন এবং স্থির থাকুন। এরপর ১০ সেকেন্ড ধরে গভীরভাবে শ^াস টানুন, শ^াস ধরে রেখে মনে মনে ৫ পর্যন্ত গুনুন। তারপর আবার ১০ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ^াস ছেড়ে দিন।
৩. ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
মেরুদ- সোজা রেখে বসে গভীরভাবে শ^াস নিন এবং কিছুক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, যতটুকু সময় নিয়ে শ^াস নেবেন, ঠিক ততটুকু সময় নিয়েই ছাড়তে হবে। ৩ থেকে ৬ মিনিট এই ব্যায়ামটি করলে মানসিক অবসাদ দূর হয়। বিশেষ করে হাঁপানি বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে এতে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
৪. প্রাণ মুদ্রা
সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিক শ^াস-প্রশ^াস রাখুন। দুই হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল যুক্ত করে বৃদ্ধাঙ্গুলের স্পর্শে আনুন, বাকি আঙুলগুলো সোজা রাখুন। হাত দুটি হাঁটুতে রেখে এভাবে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসলে ¯œায়ু শান্ত হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়।
৫. চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচ
চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাঁধ সমান্তরাল রাখুন। দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। এবার পিঠ টানটান রেখে হাত দুটি যতটা সম্ভব পেছনের দিকে প্রসারিত করুন। বুক প্রসারিত অবস্থায় ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে গভীরভাবে শ^াস নিন ও ছাড়–ন। এতে শরীরের পেশির জড়তা কাটে এবং দ্রুত মন সতেজ হয়।
