Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

asif

asif

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা
অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এমএসএফ’র পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদের সমাজের এক জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে। জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ ও আত্মহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অর্থাৎ সংখ্যাগত হ্রাসের আড়ালে সহিংসতার প্রকৃতি আরও ভয়াবহ ও জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে। একইভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮টি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার মতো কিছু অপরাধ কমেছে। কিন্তু ধর্ষণ ও আত্মহত্যার উচ্চ হার নারী-শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার প্রবণতা। জুলাই মাসে তিনটি ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিশে মীমাংসা করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ধর্ষণচেষ্টা এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা ছিল। এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও গভীর করে। গুরুতর অপরাধকে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা মানে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অপরাধীদের উৎসাহিত করা। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। জুলাই মাসে অনলাইন জুয়ার ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যা জুনে ছিল না। এটি ইতিবাচক হলেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরে যদি দুর্নীতি ও অপরাধে সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে সমাজে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, আত্মহত্যা, মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সহিংসতার প্রকৃতি বদলাচ্ছে, সংখ্যা কমলেও ভয়াবহতা বাড়ছে। তাই এখনই সময় বিচারব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার, যাতে নারী-শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং অপরাধীরা দায়মুক্তি পেতে না পারে।
 

সম্পর্কিত খবর

গ্যাস খাতের সংকট স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন জরুরি

গ্যাস খাতের সংকট স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন জরুরি

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরবে কবে?

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরবে কবে?

বর্ষায় জলাবদ্ধ ঢাকার জনজীবন

বর্ষায় জলাবদ্ধ ঢাকার জনজীবন

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক-জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক-জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা

অবহেলায় ভাঙছে বাঁধ, বাড়ছে হাওরবাসীর অনিশ্চয়তা

অবহেলায় ভাঙছে বাঁধ, বাড়ছে হাওরবাসীর অনিশ্চয়তা

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম