Logo
Logo
×

সারাদেশ

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরার পড়ালেখায় বাধা দরিদ্রতা

asif

asif

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরার পড়ালেখায় বাধা দরিদ্রতা

এফএনএস (ধামইরহাট, নওগাঁ) : নওগাঁর ধামইরহাটে মেধাবী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাসুদেবপুর গ্রামের ৩৩ নম্বর বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিরা আক্তার। তার বাবা একজন দিন মজুর। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ন কবির জানান, তার বিদ্যালয়ের মাত্র ৩ জন শিক্ষক হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে সাবিরা আক্তার বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। পড়ালেখায় খুব ভালো শিক্ষার্থী হলেও তার পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক পশলা ভারী বর্ষণেই বৃষ্টির পানি তার শোবার ঘরের দরজায় গিয়ে ঠেকে। বন্যার আতঙ্ক, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসবই তার নিত্যসঙ্গী। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস হলেও তার জ্ঞান অর্জনের দৌড় থেমে যায়নি। বৃষ্টি-কাঁদায় ভিজে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই আসতে হয় স্কুলে, কোন কোন দিন স্কুলে আসার পরিবেশ না থাকলে মা সুম্মা বেগম তাকে বাড়ীতে থাকতে বললেও মায়ের নিষেধ উপেক্ষা করে জ্ঞান পিপাসু ক্ষুদে শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তার ছুটে যায় স্কুলে। কারণ সে বিশ^াস করে শিক্ষাই তার জীবন বদলানোর একমাত্র পথ। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, খালি পেটে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও বাস্তবতা বড়ই কঠিন ও নিষ্ঠুর। ভালো আহার, শান্ত পরিবেশ, পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়া মেধাকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও মেয়েটি লড়ছে। এই লড়াই চালিয়ে যেতে যে সাহস, যে তেজ, যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগে তা অনেক সচ্ছল মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। কষ্টের বিষয় হলো, আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তাকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া উচিত, ততটা দিতে পারছি না। আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক মাত্র তিনজন। অথচ আমার বাপ-দাদার সময়েও অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার-পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। এত বছর পরও শিক্ষক সংখ্যা কার্যত বাড়েনি, অথচ দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই মেয়েটির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রায় অধরা। অনলাইন শিক্ষা, টেন মিনিট স্কুল কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অনেকের কাছে খুব সহজলভ্য, তার কাছে সেগুলোও বিলাসিতা। স্মার্টফোন, নিয়মিত ইন্টারনেট বা অতিরিক্ত খরচ এসব বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তার এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিজয়ের গল্প।’ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামের এমন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, অনেক সময় তারা অর্থ ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তারকে উপজেলার প্রশাসনের সহায়তায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। আর শিক্ষক স্বল্পতার সত্যতা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ডেপুটেশনের জন্য জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।’ 
 

সম্পর্কিত খবর

বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন

বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন

বাঙালির সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর

বাঙালির সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর

নারী সমাজের অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে

নারী সমাজের অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে

গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কাঠ ব্যবসায়ী নিহত

গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কাঠ ব্যবসায়ী নিহত

কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের

কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের

ঈশ^রদী উপজেলায় ৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ঈশ^রদী উপজেলায় ৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম