Logo
Logo
×

সারাদেশ

চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করায় রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার

asif

asif

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করায় রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার

বরিশাল প্রতিবেদক -: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই রোগীর অন্য ক্লিনিকে করানো টেস্টের রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেডিক্যাল অফিসার রমজান আলীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালককে অবহিত করার পর উল্লিখিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও একই অভিযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা সুরুজ মল্লিকের স্ত্রী নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাথাব্যথাজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত বুধবার সকালে মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিক্যাল অফিসার ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য সিরিয়ালের লাইনে দাঁড়ান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে দেখানোর পর কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন। এ সময় ওই চিকিৎসক এক মহিলাকে দেখিয়ে দিয়ে তার কথামতো ক্লিনিকে যেতে বলেন। কিন্তু চিকিৎসকের সুপারিশ করা ক্লিনিকে না গিয়ে সাইন্স ল্যাব নামের অপর একটি ক্লিনিক থেকে অনেকটা কম টাকায় পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসেন। নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা করানো শেষে রিপোর্ট নিয়ে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে যান। এ সময় কেন তার সুপারিশ করা ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করানো হয়নি, এর কারণ জানতে চান চিকিৎসক রমজান আলী। এ সময় তাকে বকাঝকা করে ওই রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন ওই চিকিৎসক। চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাকে চিকিৎসকের রুম থেকে জোর করে বের করে দেন ওই চিকিৎসকের সহযোগীরা। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান এক সাংবাদিক। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের (পরিচালকের) অনুমতি ছাড়া তার কক্ষে প্রবেশ করার কৈফিয়ত চান ওই চিকিৎসক রমজান আলী। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে হট্টগোল করতে থাকেন। এ সময় সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরাও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার টেস্ট বাণিজ্য নিয়ে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন। একপর্যায়ে চিকিৎসক রমজান আলী তার ভুল স্বীকার করে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান এবং কোনো নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাজমা বেগম নামের এক রোগী বলেন, তিনি এর আগেও একবার ওই চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন। তার সুপারিশমতো ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, অজ্ঞাত নামধারী একাধিক মহিলা (রোগীর দালাল) ওই চিকিৎসকের সামনে অবস্থান করেন। রোগী দেখানোর পরপরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তিনি ওই দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। তাদের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করালেই রোগীর সাথে খারাপ আচরণ করেন ওই চিকিৎসক। হাসপাতালের সংবাদ সংগ্রহ করা একাধিক সংবাদকর্মী জানান, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর দালালদের দৌরাত্ম্য ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেন, কিন্তু সব রোগীই তো তার কাছে অভিযোগ করেন না। যে কারণে দিন দিন দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। এ ছাড়া দালালদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দালাল মিলে রোগীদের ভয়ভীতি ও হয়রানি করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচালক বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, এমনকি অনেকটা সফলও হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীর দালাল প্রতিরোধে তিনি নিয়মিত তদারকি করছেন এবং দালাল রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

সম্পর্কিত খবর

বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন

বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন

বাঙালির সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর

বাঙালির সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর

নারী সমাজের অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে

নারী সমাজের অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে

গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কাঠ ব্যবসায়ী নিহত

গফরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কাঠ ব্যবসায়ী নিহত

কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের

কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের

ঈশ^রদী উপজেলায় ৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ঈশ^রদী উপজেলায় ৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম