গফরগাঁওয়ে শ^াসরোধ করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
asif
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি-: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে শ^াসরোধ করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ নাদিয়া আক্তার উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মো. কাউসারের (২৫) স্ত্রী ও লংগাইর ইউনিয়নের নামা বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। নাদিয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এ ঘটনার পর থেকেই ওই গৃহবধূর স্বামী অটোচালক কাউসার ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত গৃহবধূর মা মইফুল বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে গফরগাঁও উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মৃত নূর চান মিয়ার ছেলে মো. কাউসারের সাথে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নামা বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাদিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শাশুড়ির সাথে নাদিয়ার মনোমালিন্য চলে আসছিল। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনার দিন গত বুধবার সন্ধ্যার পর স্বামী তার স্ত্রীকে শ^াসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শ^শুর পরিবারের লোকজন রাতেই গৃহবধূর আত্মহত্যা করেছে বলে খবর প্রচার করে। পরে একই খবর নিহতের পরিবারকে জানানো হয়। নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয়রা জানতে পারলে তাঁরা থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে দশটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের না পেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি থানায় নিয়ে যায়। এদিকে গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতিখলা গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিও জানান। নিহতের দূর সম্পর্কের দুলাভাই মফিজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে কাউসার আমার শ্যালিকাকে বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করে আসছে। তার অভিযোগ, নাদিয়াকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পরপরই স্বামী ও শাশুড়ি নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গফরগাঁও থানার এসআই কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
