Logo
Logo
×

সারাদেশ

ঈশ^রদীর আদিবাসী পল্লীতে অর্থাভাবে বন্ধ স্কুল, শিশুদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

asif

asif

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

ঈশ^রদীর আদিবাসী পল্লীতে অর্থাভাবে বন্ধ স্কুল, শিশুদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

পাবনা প্রতিনিধি-: পাবনার ঈশ^রদী আদিবাসী পল্লীতে এক সময় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। যেখানে পাঠদানের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষার চর্চা হতো। সেটি এক দশক আগে বন্ধ হয়ে গেছে। পুরোনো সেই স্কুলের ভবন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও খেলার মাঠ সবই আগের মতোই রয়েছে। নেই শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী। স্কুলের দরজায় ঝুলছে তালা। যে স্কুল চত্বর এক সময় শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা। এ এলাকার আদিবাসী শিশুরা এখন শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার পাশাপাশি আর্থিক অভাব, অনটন, সামাজিক বৈষম্য, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের বেড়াজালে বন্দি। জানা যায়, এ উপজেলায় পাঁচ হাজার আদিবাসী বসবাস করেন। এদের মধ্যে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মারমী গ্রামে মালপাহাড়িয়া সম্প্রদায় বেশি বসবাস করে। এ পল্লীর শিশুদের জন্য নিজস্ব কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তাদের নিজস্ব মালপাহাড়ি ভাষা শিক্ষা ও চর্চার ব্যবস্থা নেই। এক থেকে দেড় কিলোমিটার হেঁটে শিশুদের পাশর্^বর্তী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক শিশু দূরের পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে চায় না। ফলে শিক্ষাবিমুখ হয়ে পড়ছে শিশুরা। আদিবাসী পল্লী মারমীতে ১৯৩২ সালে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় স্থানীয়রা নির্মাণ করেন। পরে এখানে পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালে আর্থিক সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা জানান, স্কুলটিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা মালপাহাড়ির চর্চা হতো। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হলেও অর্থাভাবে ২০১৬ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আদিবাসী পল্লীর শিশুদের অনেকেই স্কুলে যায় না, তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করে। কিছু ছেলে-মেয়ে হেঁটে এক-দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলে গেলেও তাদের কষ্টের শেষ নেই। মারমী গ্রামের আদিবাসী অমিত বিশ^াস বলেন, এক সময় আমি ও আমার বোন এ স্কুলে পড়াশোনা করেছি। আর্থিক সংকটে এটি এখন বন্ধ। আমাদের এলাকার শিশুরা এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পাশের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শিশুরা অনেকেই দূরের স্কুলে যেতে চায় না। তারা মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যাচ্ছে। ঈশ^রদী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স পাস করেছেন মারমী আদিবাসী পল্লীর সঞ্জিত দাস। তিনি বলেন, আমিসহ এ পল্লীর শিশুরা এক সময় নিজ এলাকার স্কুলে পড়তাম। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পাশের গ্রামের স্কুলে এ এলাকার কিছু শিশু পড়াশোনা করে। মারমী আদিবাসী পল্লীর যুবক সমর বিশ^াস এখন ঈশ^রদী প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে মাঠ সমন্বয়কের চাকরি করছেন। তিনি বলেন, আদিবাসী পল্লীর এ শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে বিএসএস পাস করেছি। তিনি আরও বলেন, শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি আদিবাসী পল্লীতে ছিল বলেই আমরা পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরে আরও শিক্ষার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এ শিশুশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা শঙ্কিত। কারণ এখনো আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা নেওয়ার হার অত্যন্ত কম। নিজ পল্লীতে স্কুল থাকায় বেশির ভাগ শিশুই স্কুলে আসতো। কিন্তু এখন দূরের স্কুলে সবাই যেতে চায় না। অভিভাবকরাও শিশুদের দূরের স্কুলে না পাঠিয়ে সঙ্গে করে কাজে নিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এভাবে চলতে থাকলে শিশুরা লেখাপড়া থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।

 

সম্পর্কিত খবর

আশাশুনির প্রতাপনগরে ১০০ মিটার ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে

আশাশুনির প্রতাপনগরে ১০০ মিটার ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে

২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ

২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ভাঙনের শঙ্কা

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ভাঙনের শঙ্কা

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা মধ্য সোনাকুরের পালপাড়া

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা মধ্য সোনাকুরের পালপাড়া

সৈয়দপুরে বেকারি শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় দিশেহারা মালিকরা

সৈয়দপুরে বেকারি শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় দিশেহারা মালিকরা

আটোয়ারী উপজেলার ফকিরগঞ্জ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়

আটোয়ারী উপজেলার ফকিরগঞ্জ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম