বিএনপি নেতার প্রহসনের সালিশ, দুই দিন পরই যুবতীর মৃত্যু
asif
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
বরিশাল প্রতিবেদক : প্রহসনের সালিশের দুই দিন পরই রহস্যজনকভাবে গিতা রানী দাস (৩০) নামের এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ গত রোববার দিবাগত রাতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামের। মৃত গিতা রানী ওই গ্রামের দিনমজুর গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে। সরেজমিনে মৃতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে একই এলাকার লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সাথে গিতা রানীর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। পরবর্তীতে তারা শাখা-সিঁদুর ও মালা বদল করে কথিত বিয়েও করেন। গত দেড় মাস পূর্বে গিতা রানী একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়। এরপর থেকে গিতাকে মেনে নিতে চাচ্ছিল না সঞ্জয়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক ব্যক্তি মিলে গ্রাম্য সালিশ করেন। প্রথম দফার সালিশে গিতা রানীকে স্ত্রী এবং তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করা কন্যাসন্তানকে মেনে নিয়ে বাড়িতে ওঠানোর রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের পর সঞ্জয় এবং তার পরিবার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গিতা ও তার নবজাতক কন্যাকে তাদের (সঞ্জয়) বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আশ^াস দিয়ে সালিশের স্থান ত্যাগ করে। সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তীতে সালিশের ওই রায় না মেনে সঞ্জয় এলাকা থেকে আত্মগোপন করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ নিয়ে গত শুক্রবার বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠকে বসা হয়। সালিশে সঞ্জয়ের সাথে গিতা রানীর সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য গিতাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সালিশকারীরা। স্থানীয় ও মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম দফার সালিশে সঞ্জয় তাদের বাড়িতে গিতাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মিথ্যে আশ^াস দেয়। দ্বিতীয় দফার সালিশে প্রহসনের রায় দেয় সালিশকারীরা। যে কারণে ওই সালিশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গিতা রানী। গত রোববার বিকেলে গিতা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাটাজোর সুইজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে গিতা রানীর মৃত্যু হয়। তবে মৃত গিতা রানীর বাবা গোপাল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তার মেয়ে গিতা দীর্ঘদিন থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদা বলেন, ‘এ ঘটনার আমি কোনো সালিশ করিনি। এমনকি এরকম কোনো রায়ও দিইনি।’ গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, গ্রামবাসী গিতা রানীর মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক দাবি করায় তার (গিতা) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মরদেহ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
