নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে পূর্বের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম কমানো, আন্দোলনরত গ্রাহকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বিদ্যুৎখাতের গত ১৫ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি ও ‘মিট দ্য প্রেস’ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ ভবন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি বিদ্যুৎখাতকে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের তৎপরতা বন্ধ, চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। কর্মসূচিতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে স্ল্যাবের কৌশলে গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎখাত দুর্নীতি ও লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ওই সময়ের ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও গ্রাহকদের ভোগান্তির প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প এখনো বাতিল করা হয়নি। বরং বর্তমান সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কারণে গ্রাহকদের মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি মিটার নষ্ট হওয়া, ব্যাটারি শেষ, সার্ভার ডাউন, কারিগরি ত্রুটি কিংবা রিচার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে গ্রাহকদের হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিদ্যমান ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন করা হলে প্রতি মিটারের গড় মূল্য তিন হাজার টাকা হিসাবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। এর সঙ্গে প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি যুক্ত করলে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রশ্ন সামনে আসে। মিটার পরিবর্তনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে তা বিদ্যুৎ সংকট সমাধান ও বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে ব্যয় করার দাবি জানান তিনি। বিদ্যুৎখাতে বর্তমানে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিল বকেয়া রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সংকট ও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা, চুক্তি, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ক্রয় ও আমদানি, রেন্টাল-কুইক রেন্টাল এবং গত ১৫ বছরের সরকারি ব্যয় ও সম্ভাব্য অনিয়ম-দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। বিদ্যুৎখাতের গত ১৫ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয়, চুক্তি ও ব্যয়ের ওপর নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি। চার দফা দাবি: কর্মসূচি থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলÑ ১. প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে পূর্বের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে। ২. বিদ্যুতের মূল্য কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। ৩. প্রি-পেইড মিটারবিরোধী আন্দোলনে নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. বিদ্যুৎখাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের তৎপরতা প্রতিহত করে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এছাড়া কর্মসূচি থেকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী মশাল মিছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে গ্রাহকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ ফ ম রাজিবুল ইসলাম ইভান, গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব, মুত্তাকিন খান শামিম, মাহফুজ হোসেন, আবেদ হোসেন পলাশ, এস এম সাজিম আহমেদ, রাগীব আহসান রেজভী, আবু তাহের, আবেদুর রহমান পলাশ, হাজী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
