পাবনায় ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামিকে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
asif
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
পাবনা প্রতিনিধি - পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলার আসামি ও সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আদম আলীকে (৬০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার মামলার আসামি ইরাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত সোমবার উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চ-ীপাশা এলাকায় ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। একই দিন ইরাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন। পুলিশের দাবি, আদম আলী নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার বিকালে একদন্ত বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। পথে চ-ীপাশা গ্রামের আহম্মেদ আলীর বাড়ির সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত আদম আলীর ছেলে বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে সাত জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাবনা র্যাব-১২ এর একটি অভিযানিক দল র্যাব আটঘরিয়ার গোপালপুর তাতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইরাদুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। সে চ-ীপাশা গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম ও নগদ ১ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হত্যাকা- ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আদম আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় আদম আলীকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন তিনি। গত সোমবার তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
