সাইবার স্পেসে বৈষম্যহীন ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ প্রস্তাব আইসিটিমন্ত্রীর
asif
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে তিন দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। গতকাল বুধবার চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যৌথ অগ্রগতির লক্ষ্যে মন্ত্রী তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন- ১. দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান হস্তান্তর (ঈধঢ়ধপরঃু ইঁরষফরহম ধহফ কহড়ষিবফমব ঞৎধহংভবৎ): শুধু হার্ডওয়্যার নয়, বাংলাদেশের তরুণ মেধার বিকাশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি সাইবার বিজ্ঞানী তৈরিতে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। ২. সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি (অভভড়ৎফধনষব ঈড়হহবপঃরারঃু): প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ৩. ডিজিটাল পাবলিক গুডস (উরমরঃধষ চঁনষরপ এড়ড়ফং): ডিজিটাল উন্নয়নকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে মেধাস্বত্ব (আইপি) ও ডাটা আর্কিটেকচার বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেন। প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই জনমিতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় রয়েছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ‘ডি-নথি’র মাধ্যমে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভূমি রেকর্ড থেকে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নেরও বিষয়। বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং বৃহৎ ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশের বাস্তবতায় মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস এবং ড্রোনের মাধ্যমে নির্ভুল কৃষি ব্যবস্থাপনার মতো স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিল্ক রোড দেশের জন্য একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা। উচ্চগতির সাবমেরিন কেবল সংযোগের মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। সাইবার স্পেসের বিভিন্ন হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য এবং ডাটা উপনিবেশবাদের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় সাইবার শাসনব্যবস্থাকে হতে হবে বহুপক্ষীয়, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত। বক্তব্যের শেষাংশে প্রাচীন সিল্ক রোডের আস্থা ও বিশ্বাসের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল সুপারহাইওয়েকেও একই ধরনের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। সংযোগ, তরুণ জনগোষ্ঠী ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশ এ যাত্রায় একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত। ২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন প্রতিনিধি ও অতিথি অংশ নেন। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীন ও বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নেন।
