সূরা নমল
পারা ১৯-২০, আয়াত ৯৩, রুকু ৭ (মাক্কী)
১৩-১৪. ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের সামনে সুস্পষ্ট নিদর্শন উদ্ভাসিত হওয়ার পরও ওরা বলল, ‘এ-তো জাদুর ভেলকিবাজি।’ ওদের অন্তর এগুলোকে সত্য মনে করলেও অহংকার ও জুলুমাসক্তির কারণে ওরা এই নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল। তারপর তো জানোই, জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কত করুণ ছিল!
১৫. আমি দাউদ ও সোলায়মানকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা বলেছিল, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর অনেক বিশ^াসী বান্দার চেয়ে আমাদের ওপর বেশি অনুগ্রহ করেছেন। ১৬. সোলায়মান ছিল দাউদের যথার্থ উত্তরাধিকারী। সে বলেছিল, ‘হে মানুষ! আমাকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে, আমাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবকিছু দেয়া হয়েছে। এ সবই হচ্ছে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ।’
১৭. সোলায়মানের সামনে জ্বীন, মানুষ ও পাখির সমন্বয়ে গঠিত বিশাল বাহিনীকে সমবেত করা হলো। সুবিন্যস্ত ও সুসজ্জিতভাবে তারা অভিযাত্রা শুরু করল। ১৮. যখন এই বিশাল বাহিনী পিঁপড়ে অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল তখন নেত্রী পিঁপড়ে বলল, ‘হে পিঁপড়েরা! দ্রুত তোমরা তোমাদের ঘরে ঢ়ুকে পড়ো। তা না হলে সোলায়মানের বাহিনী তোমাদের পায়ের তলায় পিষে ফেলবে। আর তারা সেটা টেরও পাবে না।’ ১৯. সোলায়মান মৃদু হেসে প্রার্থনা করল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার ও আমার মা-বাবার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, সেজন্যে শোকরগোজার হওয়ার তওফিক আমাকে দাও। তোমাকে খুশি করার মতো সৎকর্ম করার শক্তি আমাকে দাও। (প্রভু হে!) অনুগ্রহ করে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করো।’
তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১১৭৯
আনাস ইব্নু মালিক (রা:) হতে বর্ণিত-
জনৈক স্থূল দেহবিশিষ্ট আনসারী নবী (ﷺ)-এর নিকট আরয করলেন, আমি আপনার সঙ্গে (জামাআতে) সালাত আদায় করতে পারি না। তিনি নবী (ﷺ)-এর উদ্দেশ্যে খাবার তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে এলেন এবং একটি চাটাইয়ের এক অংশে (কোমল ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে) পানি ছিটিয়ে (তা বিছিয়ে) দিলেন। তখন তিনি (নবী ﷺ) সে চাটাইয়ের উপরে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন।
ইবনু জারূদ (রহ:) আনাস ইবনু মালিক (রা:)-কে জিজ্ঞেস করলেন নবী (ﷺ) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? আনাস (রা:) বললেন, সেদিন বাদে অন্য সময়ে তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি।
